মাইণ্ড-বডি প্রবলেম: কিছু ভাবনা (২)

মানুষের ইন্টেলিজেন্সের অন্যতম একটি প্রমাণ হলো বিভিন্ন বিষয়কে পরস্পর ‘এসোসিয়েট’ করতে পারার যোগ্যতা। যেমন: মানুষ তার মুখ দিয়ে উচ্চারিত কতগুলো শব্দ (Sound)-কে বিভিন্ন ব্যাক্তি, বস্তু, ক্রিয়া, বিশেষণ ইত্যাদির সাথে এসোসিয়েট করতে পারে (ধ্বনি)। আবার এই শব্দগুলোকে বিভিন্ন বক্ররেখার তথা প্রতীকের(symbol)-এর সাথে এসোসিয়েট করতে পারে (বর্ণ)। মানুষ এই এসোসিয়েশনগুলো ব্যবহার করে কোন একটি ঘটনাকে বর্ণনা করতে পারে।কোন একটি ঘটনাকে বুঝতে গেলেও মানুষের এই এসোসিয়েশনগুলো তথা ধ্বনি ও বর্ণ ব্যবহার করে। অর্থাৎ মানুষের বুদ্ধিমত্তার অংশ হলো তার ভাষা ব্যবহারের যোগ্যতা। 

কিন্তু প্রশ্ন হলো একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম কি এসোসিয়েট করার বিষয়টি করতে পারবে? এসোসিয়েট করার যোগ্যতাটি কি গণনাযোগ্য (Calculable)? আরও সাধারণভাবে বললে কম্পিউটারের কি মন(Mind) থাকতে পারে? আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রবক্তাদের অন্যতম কাজ এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা। মাইণ্ড যদি একটি উচ্চমার্গীয় প্রোগ্রাম হয় তাহলে মেন্টাল এক্টিভিটি হলো উক্ত প্রোগ্রামের এক্সিকিউশন। কম্পিউটেশনাল থিওরী অব মাইণ্ড এর প্রবক্তা জেরী ফোডোর ও হিলারী পুটনামদের মতে আমাদের মস্তিষ্কের এলগোরিদমগুলোই হলো মাইণ্ড। (হিলারী পুটনাম অবশ্য পরবর্তীতে নিজেই এর যথেষ্ট সমালোচনা করেছেন)। [১]

মাইণ্ডের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘Understanding’ বা ‘বোঝা’। Strong Artificial Intelligence(Strong AI)- এর প্রবক্তাদের মতে কম্পিউটারের মন থাকা সম্ভব। সুতরাং কম্পিউটার ‘বুঝে’। কম্পিউটারের বোঝার বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য অ্যামেরিকান ফিলোসোফার জন সার্ল-এর একটি সুন্দর থট এক্সপেরিমেন্ট আছে যাকে বলে সার্ল-এর চাইনিজ রুম। অর্থাৎ সার্লকে যদি একটি আবদ্ধ ঘরে রেখে কতগুলো চাইনিজ লেখা ইনপুট দেয়া হয় এবং চাইনিজ অক্ষরগুলোকে ব্যবহার করার জন্য কিছু ইন্সট্রাকশন দেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী একটি ‘আউটপুট’ বাইরে দিতে বলা হয়- সার্ল সেটি করতে পারবেন। কিন্তু চাইনিজ ভাষা সম্পর্কে কোন প্রকার ধারণা না থাকায় তিনি পুরো প্রক্রিয়াটিতে চাইনিজ লেখাগুলোর কিছুই বুঝতে পারবেন না। কম্পিউটারও ইনস্ট্রাকশনগুলোকে এভাবে ‘ম্যানিপুলেট’ করতে পারবে এবং একটি আউটপুট দিতে পারবে, কিন্তু কিছু বুঝতে পারবে না। 

স্ট্রংএআই-এর প্রবক্তারা অবশ্য বলছেন এখানে ‘বোঝা’ শব্দটিকে ‘আলাদা’ করে ফেলা হচ্ছে। হতে পারে আমাদের ব্রেইনে লেখার প্যাটার্নগুলোকে নিয়ে আলগারিদমের কাজ করাটাই হচ্ছে বোঝা। তবে জন সার্ল বলছেন এটাও একধরনের কার্টেসিয়ান ডুয়ালিজম। যেখানে আলগরিদমটাই ‘মাইণ্ড স্টাফ’ এর মত কাজ করছে, যা ‘ম্যাটার’-এর সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত না। [২]

তবে আমি ভাবছিলাম আমার ব্রেইন যদি একটি কম্পিউটার ধরে নেই এবং এতে যে কোন প্যাটার্নের এসোসিয়েশনকে শেখার প্রোগ্রামিং করা থাকে এবং আমি যদি উক্ত প্যাটার্ণ সম্পর্কে জেনে থাকি (তথা শিখে থাকি) তাহলে সেই এসোসিয়েশনের আলোকে উক্ত প্যাটার্ন বা সিম্বল ব্যবহার করে দেয়া কোন লেখার অর্থ ‘আমি বুঝতে পারবো’। কিন্তু, এই যে এসোসিয়েশন করার কাজটা, এটা কি স্ট্রংএআই হিসেবে আমি করতে পারবো?

আমি মাতৃভাষা বাংলা দিয়ে ‘চিন্তা’-র কাজটি করি। আমি এখন মনের ভাব প্রকাশ করতে চাইলে বাংলা অক্ষর ব্যবহার করছি। কিন্ত ইচ্ছে করলে আমি অন্য কিছু সিম্বল তৈরী করার ক্ষমতা রাখি এবং সেগুলোতে কিছু অর্থ Attribute করার (তথা এসোসিয়েট করার) যোগ্যতা রাখি। কিন্তু স্ট্রংএআই কি সেটা পারবে?

আত্মা ও মন নিয়ে পড়তে গিয়ে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছি, পড়ছি এবং আরো পড়বো ইনশাল্লাহ। এ বিষয়ে আপনাদের কোন চিন্তা আছে?

 

রেফারেন্স:

১. http://en.wikipedia.org/wiki/Computational_theory_of_mind

২. Roger Penrose, The emperor’s New Mind, Oxford University Press, Oxford, p-24-25.

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s